পিতা_মাতার_কবর_জিয়ারতের_দোয়া_সমূহ

পিতা মাতার কবর জিয়ারতের দোয়া

রাসূলে করিম (সাঃ) ওহুদের ময়দান হতে ফেরার সময় শহীদদের কবরের নিকটে যান  এবং হযরত মোসআব ইবনে ওমায়রের কবরের কাছে দাঁড়িয়ে বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহর নিকট জীবিত রয়েছ।

 

তারপর নবী করিম (সাঃ) উপস্থিত সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, সবাই শহীদদের কবর যেয়ারাত করতে এসো। এরপর নবী করিম (সাঃ) সাহাবীদেরকে নিয়ে শহীদদের কবর যেয়ারত করলেন এবং বললেন, আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি,

 

কবর জিয়ারত করার সঠিক পদ্ধতি

তারা আমাদের সালাম শুনে ও জবাব দেয়। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন হযরত আবু রাযীন (রাঃ) হুজুর (সাঃ) এর নিকট আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অধিকাংশ সময় যখন করবস্থানের পার্শ্ব দিয়ে চলাচল করি, তখন আমার কি বলা উচিত?

 

তদুত্তরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, এ ভাবে সালাম পাঠ ও দোয়া করবে—

পিতা_মাতার_কবর_জিয়ারতের_দোয়া_সমূহ

কবর জিয়ারতের দোয়া বাংলা

السلام عليكم يا أهل القبور من المسلمين والمسلمات والمؤمنين والمؤمنات انتم لنا سلف ونحن لكم تبع وانا ان شاء الله بكم لاحقون

উচ্চারণঃ আসসালামু আলাইকুম ইয়া-আহ্লাল্ কুবূরি মিনাল মুসলিমীনা

ওয়াল্ মুসলিমা-তি ওয়াল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনা-তি, আনতুম লানা- সালাফুওঁ

ওয়া নাহনু লাকুম তাবাউ’ ওয়াইন্না-ইন্‌শা-আল্লা-হু বিকুম লা-হিকুন।

 

পিতা মাতার কবর জিয়ারতের দোয়া

অতঃপর আবু রাযীন (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ রাসূল (সাঃ) সে কি আমাদের সালাম ও দোয়া শুনতে পায়? তদুত্তরে নবী করিম (সাঃ) বলেন, হাঁ, অবশ্যই শুনতে পায় এবং জবাবও দিয়ে থাকে, কিন্তু তোমরা তা শুনতে পাও না।

 

হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম (সাঃ) বলেন, আমারউম্মতের জন্য আল্লাহ পাক অসীম রহমত দান করেছেন। তা হল তারা গুনাহসহ কবরে আসে আর তাদের রেখে আসা নেক সন্তানরা এবং আত্মীয়রা সওয়াব রেসানী ও মাগফেরাত কামনা করে থাকে, এজন্য কেয়ামতের দিন তারা অধিকাংশই বেগুনাহ হয়ে উঠবে।

 

মৃত ব্যক্তির জন্য যা করা প্রয়োজন

কারো মৃত্যু হলে তার চোখ খোলা থাকলে বন্ধ করে দিবে। যদি মুখ হা করা থাকে তবে বন্ধ করে দিবে। হাত পা সোজা করে দিবে। হাত-পায়ের আঙ্গুল যদি বাঁকা থাকে তবে সোজা করে দেবে। নাপাক লোককে মাইয়্যেতের নিকট আসতে দেবে না এবং আগরবাতি, ধূপ-লোবান জ্বালাবে।

 

এতদ্ব্যতীত যে সমস্তকাজ অবশ্যই করতে হবে তার বর্ণনা ধারাবাহিকভাবে নিম্নে প্রদত্ত হলঃ গোসল দেয়া : মাইয়্যেতের গোসল দেয়া ফরযে কেফায়া। পানিতে বরই পাতা দিয়ে সামান্য গরম করে গোসল করাতে হবে।মাইয়্যেতকে শুইয়ে পর্দা করে নিতে হবে এবং সেখানে শুধু গোসলদাতা ও তার সাহায্যকারী থাকবে।

 

পিতা মাতার কবর জিয়ারতের দোয়া

মাইয়্যেতকে যখন ঘর থেকে বের করবে তখন মাথা আগে বের করতে হবে। গোসলের সময় মাথা উত্তর দিকে ও পা দক্ষিণ দিকে এবং দেহ চাদর দিয়ে আবৃত করে রাখবে। অতঃপর গোসলদাতা তার নিজের হাতে একখানা কাপড় জড়িয়ে মাইয়্যেতের পেশাব-পায়খানার রাস্তা ধুয়ে ফেলবে ।

কিন্তু সেদিকে নজর দেয়া যাবে না। এরপর মাইয়্যেতকে অযূ করাবে। অযূ করার সময় কুল্লি ও নাকে পানি না দিয়ে ভেজা কাপড়ের সাহায্যে মুখ ও নাকের ভেতরের ময়লা পরিষ্কার করে ফেলবে। তারপর সমস্ত দেহ পানি দিয়ে ধুয়ে দিবে।

 

 

 

 

 

 

 

কবর জিয়ারতের নিয়ম

অতঃপর মাইয়্যেতকে বাম কাত করে মাথা হতে পা পর্যন্ত তিনবার পানি ঢেলে দেবে। তারপর ডান কাত করে অনুরূপ পানি ঢালবে। এরপর মাইয়্যেতকে বসিয়ে আস্তে আস্তে পেটে চাপ দিতে থাকবে। এতে পেট হতে কিছুবের হলে তা পরিষ্কার করে ফেলবে।

 

এর পরে মাইয়্যেতের সমস্ত দেহ কাপড় দিয়ে মুছে দিবে। এরপর নাকে, কানে ও শরীরে আতর লাগিয়ে দিবে।হাতে-পায়ে নখ থাকলে তা কাটা জায়েয নেই। পুরুষ মাইয়্যেতের গোসল পুরুষ এবং মহিলা মাইয়্যেতের গোসল মহিলা দেবে। ওযর থাকলে অর্থাৎ গোসলের লোক না পেলে স্বামী তার স্ত্রীকে এবং স্ত্রী তার স্বামীকে গোসল দেয়া জায়েয।

 

বিনা ওযরে কোন অবস্থাতেই স্বামী স্ত্রীকে স্পর্শ করতে পারবে না। কিন্তু স্ত্রী মৃত স্বামীকে গোসল দিতে পারবে। হায়েয ও নেফাসওয়ালী মহিলা মাইয়্যেতকে গোসল দিবে না। গোসল দেয়ার পরে গোসলদাতা নিজেও গোসল করবে।

 

পুরুষের কাফনের কাপড় কয়টি

কাফনের বর্ণনা,পুরুষ মাইয়্যেতকে গোসল দেয়ার পরে তিনখানা কাপড়েকাফন দেয়া সুন্নত। যথা – (১) ইজার বা পায়জামা  এ কাপড় দিয়ে মাথা হতে পা পর্যন্ত ঢাকতে হয়। (২) পিরহান : এটা ঘাড় থেকে হাঁটু পর্যন্ত বা তারনিচ পর্যন্ত হতে হবে।

(৩) লেফাফা (চাদর) : এটা দিয়ে ইজারের মত সমস্ত শরীর মাথা হতে পা পর্যন্ত ঢেকে দিতে হবে, তবে লেফাফা ইজার হতে একটু লম্বা হবে । শুধু ইজার ও লেফাফা দিয়ে কাফন দেয়া যায় ।

 

মহিলাদের কাফনের কাপড় কয় গজ লাগে

মাইয়্যেত মহিলা হলে পাঁচখানা কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া সুন্নত। যথা : (১) ইজার : পুরুষ মাইয়্যেতের ন্যায়, (২) পিরহান : পুরুষ মাইয়্যেতের ন্যায়, (৩) লেফাফা : পুরুষ মাইয়্যেতের ন্যায়, (৪) সেরবন্দ বা ওড়না ঃ এটা দিয়ে মহিলা মাইয়্যেতের চুল বেঁধে দিতে হয়, এটা লম্বায় তিন হাত ও পাশে একহাত হতে হবে ।

 

(৫) সিনাবন্দ : এটা দিয়ে মহিলা মাইয়্যেতের সিনা বেঁধে দিতে হয়।ওযর থাকলে মহিলা মাইয়্যেতকে তিনখানা কাপড় দিয়েও কাফন দেয়া জায়েয আছে । যথা (১) ইজার, (২) লেফাফা, (৩) ওড়না।

 

কাফন পরানোর নিয়মঃ মাইয়্যেত যদি পুরুষ হয়, তবে খাটের উপর সর্বাগ্রে লেফাফা বিছাতে হবে। এরপর ইজার বিছিয়ে তার উপর পিরহান বিছাতে হবে। পিরহানের উপরের অংশ গুটিয়ে মাথার দিকে রেখে মাইয়্যেতকে তার উপর রেখে গুটিয়ে রাখা পিরহানের অংশ মাথার উপর দিয়ে এনে বুকের উপর দিয়ে হাঁটু পর্যন্ত পৌছে দিবে।

 

এরপর প্রথমে বাম দিক পরে ডান দিক হতে ইজার পরিয়ে দিবে। সর্বশেষে লেফাফা দিবে। মাইয়্যেত মহিলা হলে খাটের উপর প্রথমে সিনাবন্দ বিছিয়ে তার উপর লেফাফা তারপর পিরহান পুরুষের পিরহানের ন্যায় বিছিয়ে মাথার কাছে সেরবন্ধ রাখতে হবে।

 

অতঃপর পুরুষের মত মহিলা মাইয়্যেতকে কাফনের উপর রেখে প্রথমে পিরহান পরিয়ে মাথার চুল দু’দিকে দু’ভাগ করে ওড়নার ভেতর লেপটে মাথা ঢেকে দু’দিক দিয়ে বুকের উপর রেখে দেবে। এরপর প্রথমে ইজার, পরে লেফাফা পুরুষের মত লেপটে দিবে। সর্বশেষ সিনাবন্দ পরানো শেষ হলে মাথা ও পায়ের দিকে সুতা দিয়ে বেঁধে দিবে এবং কবরে রাখার পর তা খুলে দিতে হবে।

কবর জিয়ারত কিভাবে করতে হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *